![]() |
|
- ০.৫ মিমি অথবা ০.০২ সেন্টিমিটারের এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীটিকে সর্ব প্রথম ১৭৭৩ সালে সনাক্ত করেন জার্মানের প্রাণীবিদ "জহান অগাস্ট"। তারা এই ক্ষুদ্র প্রাণীটির নাম দেন "little water bears" বা পানির ক্ষুদ্র ভাল্লুক নামে। ইতালিয়ান প্রাণীবিদ "লাজ্জারো স্পাল্লাঞ্জানি" পরবর্তিতে এর নামকরন করেন টার্ডিগ্রেড নামে। টার্ডিগ্রেড অর্থ (slow steppers) বা "ধীর গতি'"। টার্ডিগ্রেড খুভ ধীর গতিসম্পন্ন প্রাণী।

টার্ডিগ্রেড photo source: bbc.com - অদ্ভুদ এই টার্ডিগ্রেডের রয়েছে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার আশ্চার্য ক্ষমতা। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে এই টার্ডিগ্রেড যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরনের সর্বোচ্চ সীমা অথবা সর্বনিম্ন সীমায় টিকে থাকতে পারে। হোক সেটা এন্টার্টিকার মত শীতলতম দেশ কিংবা লিবিয়ার মর উষ্ণতম দেশ টার্ডিগ্রেড দুই প্রতিকূল পরিবেশেই নিজেকে সামলে নিতে পারে।
- বিজ্ঞানী দইয়েরে ১৮৪২ সালে তার জার্নালে টার্ডিগ্রেডের তাপমাত্রা সহনশীলতার প্রমাণটি তুলে ধরার লক্ষে একটি টার্ডিগ্রেডের প্রজাতিকে কয়েক মিনিটের জন্য ১২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রেখে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন টার্ডিগ্রেডটি বেচে আছে। এখানেই শেষ নই পরবর্তীতে টার্ডিগ্রেডের আরো কয়কটি প্রজাতির উপর পরিক্ষা করে দেখা গেল এরা ১৫১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেও হেসে খেলে থাকতে পারে।জেনে রাখা ভাল ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পানি ফুটতে শুরু করে। সেখানে আমি আপনি ১৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা হলে কয়েক সেকেন্ডেই সেদ্ধ ডিম হয়ে যাব।
- মজার বেপার হল টার্ডিগ্রেডকে যদি -২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে রাখা হয় তাহলে সে ৩০ বছর অনায়েশে বেচে থাকতে পারে। আবার ধরুন -২০ থেকে আরু কম -১০০ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনা হল এবার কি হবে? -১০০ তেও এরা স্বাভাবিক ভাবেই বেচে থাকতে পারবে। এবার ধরুন -২৭২ এ নামিয়ে আনা হল এবার কি হবে? এবার মনে হয় আর নিস্তার নেই। হা এইবার কিছুটা প্রভাব পরবে কেননা -২৭২ ডিগ্রিতে সে মাত্র ১৫ মিনিট বেচে থাকতে পারে। এতটা খুশি হবার কিছু নেই -২৭২ মুখের কথা নই যে বলে ফেললাম। কেননা পানি বরফে পরিনত হতে কেবল ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের প্রয়োজন সেখানে -২৭২ ডিগ্রিতো বড্ড বেশিই ঠান্ডা।
- বিজ্ঞানীরা আরু আবিষ্কার করেন যে এরা প্রায় ৩০ বছর না খেয়ে বেচে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এরা যদি খাবার না পাই তাহলে এদের দেহের শারীরিক প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থির হয়ে যায় যার ফলে প্রাণীটি অনেক বছর বেচে থাকতে পারে। এমন কি এরা মহাশূন্যও টিকে থাকতে পারে। তা প্রমাণ করতে নাসার একদল বিজ্ঞানীরা টার্ডিগ্রেডকে ২০০৭ সালে পানিশূন্য অবস্থায় একটি কৃত্রিম উপগ্রহে করে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠায়। আশ্চার্য জনকভাবে ১০ দিন মহাশূন্যে বিভিন্ন শক্তিশালী মহাজাগতিক তরঙ্গের বিকিরনের মুখুমুখি হয়ে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে পূনরাই পৃথিবীতে ফিরে আসে টার্ডিগ্রেড। .[মাহবুবুল হাসান শান্ত]

No comments:
Post a Comment