Wednesday, May 8, 2019


  • টার্ডিগ্রেডের মাথা photo source: bbc.com

  • ০.৫ মিমি অথবা ০.০২ সেন্টিমিটারের এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীটিকে সর্ব প্রথম ১৭৭৩ সালে সনাক্ত করেন জার্মানের প্রাণীবিদ "জহান অগাস্ট"। তারা এই ক্ষুদ্র প্রাণীটির নাম দেন "little water bears" বা পানির ক্ষুদ্র ভাল্লুক নামে। ইতালিয়ান প্রাণীবিদ "লাজ্জারো স্পাল্লাঞ্জানি" পরবর্তিতে এর নামকরন করেন টার্ডিগ্রেড নামে। টার্ডিগ্রেড অর্থ (slow steppers) বা "ধীর গতি'"। টার্ডিগ্রেড খুভ ধীর গতিসম্পন্ন প্রাণী। 



  • টার্ডিগ্রেড photo source: bbc.com
  • অদ্ভুদ এই টার্ডিগ্রেডের রয়েছে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার আশ্চার্য ক্ষমতা। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে এই টার্ডিগ্রেড যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরনের সর্বোচ্চ সীমা অথবা সর্বনিম্ন সীমায় টিকে থাকতে পারে। হোক সেটা এন্টার্টিকার মত শীতলতম দেশ কিংবা লিবিয়ার মর উষ্ণতম দেশ টার্ডিগ্রেড দুই প্রতিকূল পরিবেশেই নিজেকে সামলে নিতে পারে।
  • বিজ্ঞানী দইয়েরে ১৮৪২ সালে তার জার্নালে টার্ডিগ্রেডের তাপমাত্রা সহনশীলতার প্রমাণটি তুলে ধরার লক্ষে একটি টার্ডিগ্রেডের প্রজাতিকে কয়েক মিনিটের জন্য ১২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রেখে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন টার্ডিগ্রেডটি বেচে আছে। এখানেই শেষ নই পরবর্তীতে টার্ডিগ্রেডের আরো কয়কটি প্রজাতির উপর পরিক্ষা করে দেখা গেল এরা ১৫১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেও হেসে খেলে থাকতে পারে।জেনে রাখা ভাল ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পানি ফুটতে শুরু করে। সেখানে আমি আপনি ১৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা হলে কয়েক সেকেন্ডেই সেদ্ধ ডিম হয়ে যাব।
  •  মজার বেপার হল টার্ডিগ্রেডকে যদি -২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে রাখা হয় তাহলে সে ৩০ বছর অনায়েশে বেচে থাকতে পারে। আবার ধরুন -২০ থেকে আরু কম -১০০ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনা হল এবার কি হবে? -১০০ তেও এরা স্বাভাবিক ভাবেই বেচে থাকতে পারবে। এবার ধরুন -২৭২ এ নামিয়ে আনা হল এবার কি হবে? এবার মনে হয় আর নিস্তার নেই। হা এইবার কিছুটা প্রভাব পরবে কেননা -২৭২ ডিগ্রিতে সে মাত্র ১৫ মিনিট বেচে থাকতে পারে। এতটা খুশি হবার কিছু নেই -২৭২ মুখের কথা নই যে বলে ফেললাম। কেননা পানি বরফে পরিনত হতে কেবল ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের প্রয়োজন সেখানে -২৭২ ডিগ্রিতো বড্ড বেশিই ঠান্ডা। 
  • বিজ্ঞানীরা আরু আবিষ্কার করেন যে এরা প্রায় ৩০ বছর না খেয়ে বেচে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এরা যদি খাবার না পাই তাহলে এদের দেহের শারীরিক প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থির হয়ে যায় যার ফলে প্রাণীটি অনেক বছর বেচে থাকতে পারে। এমন কি এরা মহাশূন্যও টিকে থাকতে পারে। তা প্রমাণ করতে নাসার একদল বিজ্ঞানীরা টার্ডিগ্রেডকে ২০০৭ সালে পানিশূন্য অবস্থায় একটি কৃত্রিম উপগ্রহে করে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠায়। আশ্চার্য জনকভাবে ১০ দিন মহাশূন্যে বিভিন্ন শক্তিশালী মহাজাগতিক তরঙ্গের বিকিরনের মুখুমুখি হয়ে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে পূনরাই পৃথিবীতে ফিরে আসে টার্ডিগ্রেড। .[মাহবুবুল হাসান শান্ত]




Thursday, February 28, 2019

প্রজাপতি সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য






প্রজাপতি সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য :-

  •  পেট্রিক লাফকাদিও হার্রন এর মতানুসারে প্রজাপতিকে জীবিত অথবা মৃত ব্যক্তির আত্মার ব্যক্তিত্ব রূপে দেখা হতো। জাপানে লোক মুখে কথিত আছে যে "যদি কোনো প্রজাপতি করোও অতিথিশালায় প্রবেশ করে তবে ওই বাড়িতে সে যাকে বেশি ভালোবাসে সে তার বাড়িতে খুব শিগগিরই বেড়াতে আসবে।"

অধিক  শঙ্খক  প্রজাপতি খারাপ লক্ষণ হিসেবে দেখা হতো। টায়রা নো  মাসাকাডো যখন গোপনভাবে বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন জাপানের কিওটো শহরে এক ঝাঁক প্রজাপতি প্রবেশ করেছিল। একঝাঁক প্রজাপতির আগমন দেখে সেখানকার লোকজন ভীষণ ভয় পেয়েগেছিল এই ভেবে যে "প্রজাপতির আগমন শয়তানের আগমনের প্রতীক  বহন করে।" রোমানের একটি মৃত ব্যাক্তির  ভাস্কর্যের চিত্রের মুখের বাহিরে একটি প্রজাপতির ছবি আঁকা আছে,  রুমানিরা বিশ্বাস করত যে তাদের আত্মা বের হয় মুখ দিয়ে। 
প্রজাপতি নামটি আসে প্রাচীন গ্রিস শব্দ Psyche থেকে যার প্রাথমিক অর্থ দাঁড়া soul or mind অর্থাৎ আত্মা বা মন। 
মিরশা ইলিয়াড এর মতে মায়ানমারের কিছু নিগ্রোর উৎপত্তি হয়েছে প্রজাপতি থেকে। কিছু সভ্যতায় প্রজাপতিকে পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রজাপতিকে স্ত্রী/পুরুষ নির্বাচন করা যায় না  যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের পাখা গজায়। প্রজাপতির মেইল/ফিমেইল চিহ্নিত করা হয় তাদের ডানা দেখে। 
ব্রিটিশ কান্ট্রি ডেভনের মানুষ বিশ্বাস করত যে বছরের শুরুতে কেউ যদি একটি প্রজাপতি মারে তাহলে সে তার পুরু এক বছরের দূর ভাগ্য দূর করে ফেলেছে।
ফিলিপাইনে বিশ্বাস করা হত "এক প্রজাতির কালো প্রজাপতি অথবা মথ যদি ঘরে আসতো  তাহলে ওই পরিবারের কেউ একজন মারা যাবে "।